অনলাইন জগতে সারাদেশে দ্বিতীয় এবং জেলার প্রথম ও সর্বাধিক পাঠক প্রিয় Coxs Bazar News-CBN। যার বয়স ১৮ বছর। অনেক কাঠখড় পুরিয়ে সিবিএন আজ নিবন্ধিত। স্বীকৃতি পেল সরকারের। আলহামদুলিল্লাহ।

তবে এই পথ খুবই তিক্ত, কঠিন ও অভিজ্ঞতালব্ধ গল্পেভরা। সিবিএনকে চিরতরে খেয়ে দিতে সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করেছিল প্রতিহিংসাপরায়ণ চক্র। তারা সিবিএন বিরোধী বহুমুখী মিশন চালিয়েছে। আওয়ামী বিরোধী তকমা দিয়ে বিটিসিএলে নালিশ দিয়েছে। পেজে বারবার গ্রুপ রিপোর্ট মে’রেছে। ৬ লাখ ফলোয়ারের পেজ খেয়েছে। ওয়েবসাইট ব্লক করিয়েছে।
ব্যক্তিগত ফেসবুকে ছোটখাটো স্ট্যাটাস লিখলেও পুলিশ/বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে নানা সময় নাজেহাল করেছে। সম্পাদক ও আমাকে একটি বিশেষ সংস্থার অফিসে ডেকে নিয়ে বসিয়ে রাখা হতো। ফরমায়েশি নিউজের তা’লিম দিতো। এভাবে আরো কত্তো কাহিনী!

সিবিএনে কাজ করি বলে অনেক সময় আমাদেরকে সরকারি অনুষ্ঠানে ঢুকতে দেয়নি; নিউজ কাভার করতে গিয়ে অপমানিত করে তাড়িয়েছে; বিভিন্ন বাহিনী দিয়ে মানসিক টর্চার করিয়েছে; সারাক্ষণ মানসিক কষ্টে রেখেছে, আতঙ্ক আর উদ্বেগের মধ্যে কত্তোবার নির্ঘুম রজনী কাটাতে হয়েছে, হিসেব নেই। ঘটনাও জানিনা, এমন মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করেছে। জা’লেমদের কারণে আমার অবুঝ দুই সন্তানের চোখের পানিতে রবের আরশ ছেদেছে। অনেক বেশি কষ্ট পেয়েছে। নষ্ট হয়েছে পরিবারের হক।

তবু আজকের দিনে কু’চক্রীদের ধন্যবাদ। তাদের চক্রান্ত ছিল বলেই সাহসী ও কৌশলী হয়েছি। ধৈর্য ধরেছি। পেশায় অবিচল থেকেছি। সিবিএনের জন্য চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। কঠিন সময়েও এই হাউজ ছেড়ে যাইনি। বরং একপথ বন্ধ করলে বিকল্প পথ তৈরি করেছি। সিবিএনের জন্য রাতদিন দেখিনি। ছুটেছি মঞ্জিলপানে।

২০১০ সালে যুগ্ম বার্তা সম্পাদক হিসেবে সিবিএনের সঙ্গে আমার যাত্রা। তখন শুধু www.coxsbazarnews.com নিউজ পোর্টালই ছিল। পরে মাল্টিমিডিয়া যুক্ত হয়। এভাবে দেখতে দেখতে প্রায় ১৬ টি বছর গেল। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় অনেক সহকর্মী এসেছে, গেছে। ভালোবাসার টানে এখনো থেকে গেছি আমি সিবিএন পাগলা!

হতাশা, যন্ত্রণা, পাওয়া না পাওয়ার ইজা অনেক লম্বা। শুরু করলে বয়ান শেষ হবে না।

ঘোর অমানিশায় সারাক্ষণ আলো-ছায়া হয়ে ছিলেন শ্রদ্ধেয় সম্পাদক এস এম আকতার উদ্দিন চৌধুরী। বহুমুখী ষড়যন্ত্রের মাঝেও আমার প্রতি তার আস্থা এবং বুকভরা ভালোবাসা কমেনি মোটেও। বরং চ্যালেঞ্জিং এই পথচলা মসৃণ করেছে। দায়িত্ববান ও সাহসী বানিয়েছে। মায়ার জালে আটকে রেখেছে।
আকতার ভাই প্রায় সময় বলতেন, ‘এই দিন থাকবে না। ধৈর্য ধরেন। একটু কষ্ট করেন। সুদিন আসবে। তখন যার প্রাপ্য তাকে দেওয়া হবে। কাউকে বঞ্চিত করব না।’

সিবিএনের সঙ্গে আমার দীর্ঘ এই জার্নিতে অনেক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বন্ধুমহল সাহস যুগিয়েছে। দুঃসময়ের পাশে থেকেছে।
এখনো ছায়া হয়ে আছেন। সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।

আলহামদুলিল্লাহ। দীর্ঘ ১৮ বছর অপেক্ষার পর সরকারি নিবন্ধন পেল সিবিএন। হাতে এলো নতুন পরিচয়। সরে গেলো কালো মেঘ। উদিত হলো সম্ভাবনার সূর্য। ছড়াবে আলো। ফুটেছে ফুল। মেলেছে ডানা।

বিশেষ কৃতজ্ঞতা শ্রদ্ধেয় এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না এমপি। তার আন্তরিক ভূমিকায় ‘নিষিদ্ধ সিবিএন’ এখন নিবন্ধিত।

এই সুসংবাদ এর আশায় যারা খেয়ে না খেয়ে এতদিন আমাদের সঙ্গে ছিলেন; সিবিএন ছেড়ে যাননি; সংবাদ-বিজ্ঞাপন দিয়ে পথচলায় উৎসাহিত করেছেন; নানাভাবে পরামর্শ দিয়েছেন-সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।

সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আগামীর সম্ভাবনার পথে হাঁটবে প্রাণের সিবিএন।
ধন্যবাদ। শুভ রাত্রি।

নিবন্ধন নং : ২৮৬


ইমাম খাইর
বার্তা সম্পাদক, সিবিএন
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং, মঙ্গলবার।